Wednesday, July 6, 2016

সাইনোসাইটিস বা মাইগ্রেইন পেইন

প্রচন্ড মাথা ব্যাথা বা মাইগ্রেইনের পেইন।
আমাদের দেশের বা আমাদের সাব কন্টিনেন্টের আবহাওয়া অনুযায়ী মাথাব্যাথা একটি কমন রোগ। যাতে দক্ষিন এশিয়ান প্রায় অনেক মানুষ ই আক্রান্ত। কিন্তু কিছু নিয়ন কানুন মেনে চল্লেই আমরা এই ভয়ঙ্কর পেইন থেকে মুক্ত থাকতে পারি।

মাইগ্রেইইন পেইন এমন একটি পেইনফুল রোগ যা আক্রান্ত ব্যাক্তি ছাড় অন্য কেউ সহজে আচ করতে পারেন না। যেটি একমাত্র ভুক্তভুগি ই বুঝতে পারে। কিন্তু সব মাথা ব্যাথা ই মাইগ্রেইন বা সাইনোসাইটিজ নয়।

উপসর্গঃ 
  • মাথার এক পাশে ব্যাথা অনুভব করা।
  • শুরুতে হাল্কা ব্যাথা অনুভুত হয়ে ধীরে ধীরে বারতে থাকা।
  • প্রচন্ড ভাবে ব্যাথা হওয়া।
  • মাথার ভিতর মজক লাফানের মত অনুভব করা।
  • মাথা ঘোরানো ভাব।
  • মাথা ব্যাথার সাথে বমি বমি ভাব হওয়া।
  • অনেক সময় বমি হওয়া।
  • হাটাচলা বা সিড়ি বেয়ে উঠলে প্রচন্ড ভাবে মাথার ভিতর লাফানো ভাব অনুভত হওয়া।
  • খাওয়া দাওয়ায় অরুচি হওয়া।
ব্যাথা হওয়ার কারনঃ 
মাইগ্রেইনের ব্যাথা উঠার জন্য অনেক গুলো কারোন আছে যেমন;-
  • প্রচন্ড গরম আবোহাওয়ায় থাকাঃ- সাধারনত ৩৩-৩৫ ডিগ্রির উপরে হলে ই ব্যাথা অনুভুত হতে পারে ।
  • সরাসরি রোদের মধ্যে অবস্থান করাঃ প্রচন্ড রোদের মধ্যে অবস্থান করলে ব্যাথা অবশ্যম্ভাবি।
  • টেনশন ঃ বলা হয়ে থাকে যে মাইগ্রেইন পেইনের অন্যতম কারন হলো টেনশন করা।
  • টিভি দেখাঃ অনেক্ষন টিভি দেখলে বা দৃষ্টি একই দিকে ধরে রাখলে ও আপনি এই ব্যাথায় আক্রান্ত হতে পারেন।
  • ভালো ঘুম না হওয়াঃ রাতে ভালো ঘুম না হলে ও এই পেইন উঠতে পারে।
  • বেশি ঠান্ডা ঃ বেশি গরম আবোহাওয়া যেমন মাথা ব্যাথার কারন তেমনি বেশি ঠান্ডা লাগ্লে ও মাইগ্রেইন পেইন উঠতে পারে।
  • চা বা কফি পান করাঃ চা বা কফি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের ই এক টা অংশ কিন্তু চা বা কফি পানে মাইগ্রেইন বা ছাইনোসাইটিস ব্যাথাউঠতে পারে, কারন চা বা কফিতে প্রচুর ক্যাফেইন থাকে।
  • অসময়ে ঘুমানোঃ অসময়ে যেমন দিনের বেলা বা সন্ধার দিকে  ঘুমালে ঘুম থেকে উঠলে এই ব্যাথা আস্থে আস্থে অনুভুত হতে থাকে, যা আস্থে আস্থে বারতে থাকে।
  • অতিরিক্ত মানুষিক পরিশ্রমঃ অতিরিক্ত মানুষিক কাজ করা ও এর অন্যতম কারন।
  • অসাভাবীক ভাবে বিছানায় ঘুমানোঃ অসাভাবীক ভাবে ঘুমানোর মানে হলো শোয়ার সময় বা হাত , পা, মাথা সাভাবিক ভাবে বাকা বা উলটো করে  ঘুমানো। 
  • এসিডিটি বা গ্যষ্ট্রিকঃ এসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিক সমস্যা ও মাইগ্রেইনের অন্যতম কারন, এতে করে আপনার সাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।
  • বদ হজম বা পাকস্থলির সমস্যাঃ বদ হজম ও আপনার সাভাবিক কর্মক্ষমতা হ্রাস করে আপনার ব্রেইনের সাভাবিক রক্ত চলাচলে বিঘ্ন ঘটায়।
  • অতিরিক্ত ভ্রমনঃ অতিরিক্ত ভ্রমনে ও আপনার শারিরীক সাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় এবং আপনার মাথা ব্যাথা অনুভুত হতে পারে।
উপোরোক্ত কারন সমুহ দেখে হয়তো আপনি হাসছেন আর ভাবছেন যে তাহলে কি করবে যদি কেউ সাইনোসাইটিস বা মাইগ্রেইনে আক্রান্ত হয়? হ্যা এর থেকে ও মুক্তি পাবার উপায় আছে কিন্তু চিরতরে মুক্ত হবার আশা খুভ ই খীন। তবে হতাস না হয়ে নিম্নোক্ত নিয়ম গুলো মেনে চল্লে হয়তো আপনি উপসম পাবেন ইনশাল্লাহ।

মাইগ্রেইন ব্যাথা থেকে বেচে থাকার উপায়ঃ 
ইসলামী ব্যাংক হসপিটালের ডাঃ মোঃ মাসুদ রানা বলেন মাইগ্রেইন পেইন এমন একটি পেইন যা পুরোপুরি নির্মুলে কোনো ট্রিটমেন্ট ই ১০০% কাজে আসেনা । কিন্তু আপনি চাইলে এ রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারেন। আর তার জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলতে হবে।
  • স্বাভাবিক জীবন যাপন।
  • অতিরিক্ত রোদ পরিহার করা প্রোয়জনে ছাতা ব্যাবহার করা বা ছায়ায় অবস্থান করা।
  • প্রচুর পরিমান পানি পান করা।
  • এসিডিটি বা গ্যাষ্ট্রিক নিয়ন্ত্রন করা।
  • পর্যাপ্ত পরিমান ঘুমানো।
  • দিনের বেলা ঘুমালে অবস্যই পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমানো, ঘুমে সমস্যা হলে ব্যাথা হবে ই।
  • চা, কফি,ঠান্ডা পানীয় যথা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
  • ধুমপান, বা মাদক থেকে বিরত থাকুন।
  •  টেনশন এড়িয়ে চলুন।
এরপর ও ব্যাথা উঠেলে নিম্নোক্ত কাজ গুলো করুন, ব্যাথা কমে যাবে ইনশাল্লাহ।
  1.  ট্যবলেটঃ Napa Extend ১ টি, সাথে পরিমিত পাওয়ারের গ্যসের ঔষধ  এবং একটি Vergon খেয়ে নিবেন অথবা টাফনিল ১ টি সাথে পরিমিত গ্যাসের ঔষধ খেলে ও ব্যাথা কমে যাবে।
  2. রিলাক্স হয়ে আলো নিভিয়ে ঘুমিয়ে নিন।
  3.  কাজের মিধ্যে ব্যাথা উঠলে বেটার হয় ব্যাথা অনুভুত হবার সাথে সাথে ওষধ গুলো সেবন করে নিন, তাহলে না ঘুমিয়ে ও ব্যাথা থেকে মুক্তি পাবেন।


দ্রবষ্টঃ উপোরোক্ত টিপস গুলো কোনো সীকৃত ডাক্তারের নয় কিন্তু এটি ভুক্তভুগির অনুধাবন মাত্র।

No comments: